লোহাগাড়া উপজেলা আয়তন: ২৫৮.৮৭ বর্গ কিমি। অবস্থান: ২১°৫৪´ থেকে ২২°০৫´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২°০০´ থেকে ৯২°১৩´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সীমানা: উত্তরে সাতকানিয়া উপজেলা, দক্ষিণে চকোরিয়া ও লামা উপজেলা, পূর্বে বান্দরবান সদর এবং লামা উপজেলা, পশ্চিমে বাঁশখালী উপজেলা।
জনসংখ্যা ২৬৬৭৪১; পুরুষ ১৩৪০৯৪, মহিলা ১৩২৬৪৭। মুসলিম ২৩৫৮৬৭, হিন্দু ২৪৯৩৪, বৌদ্ধ ৪৪, খ্রিস্টান ৫৬৬৫ এবং অন্যান্য ২৩১।

জলাশয় টংকাবতী, দলু, হাদর ও হাঁকার খাল এবং জিলাইছড়া ও ধলাই বিল উল্লেখযোগ্য।
প্রশাসন লোহাগাড়া থানা গঠিত হয় ১৯৮১ সালে এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৩ সালে।
তথ্যঃ

লোহাগাড়া উপজেলা আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১,
প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ মছদিয়া বৌদ্ধ মন্দির (আধুনগর, আঠারো শতক), চেঁদিরপুনি বৌদ্ধ মন্দির ও রাজস্থাপত্য, গুপ্ত জমিদার বাড়ি (পদুয়া), আধুনগর বৌদ্ধ মন্দির, মগদীঘি মগদেশ্বরী মন্দির।
মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি ১৯৭১ সালে পাকসেনারা এ উপজেলায় ব্যাপক অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। আমিরাবাদ বণিক পাড়ায় ১৫ জন গ্রামবাসীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। রাজাকাররা চুনতি ডেপুটি বাজারের হিন্দু পাড়া থেকে ১২ জনকে চন্দনাইশ থানার দোহাজারিতে নিয়ে হত্যা করে। জোটপুকুরিয়ায় মুক্তিযোদ্ধারা ১৭ জন রাজাকারকে হত্যা করে।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন গণকবর: জোটপুকুরিয়া (পুটিবিলা ইউনিয়ন)।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ ৬২, মাযার ৪, মন্দির ৯, গির্জা ২, প্যাগাডো ৬। উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান: লোহাগাড়া মসজিদ, চুনতি জামে মসজিদ, বড়হাতিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, হযরত শাহ পীর আউলিয়ার মাযার, চুনতি শাহ সাহেব কেবলার মাযার, বার আউলিয়ার মাযার, মছদিয়া বৌদ্ধ মন্দির, আধুনগর মন্দির।
শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৪৪.৬%; পুরুষ ৪৮.৪%, মহিলা ৪০.৮%। কলেজ ৩, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২৫ প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯৭, মাদ্রাসা ২২। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: বার আউলিয়া ডিগ্রি কলেজ (১৯৮৩), চুনতি মহিলা কলেজ (১৯৮৯), উত্তর আমিরাবাদ এম বি উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৩২), উত্তর আমিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৯৩৫), গোলামবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৩৭), চুনতি কলাউজান গৌরসুন্দর হাইস্কুল (১৯৪৫), চুনতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৯১৯), সুখছড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৯২৯), কলাউজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৯২৯), সেনেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৯৩২), হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসা (১৯৩৭)।
সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান কাব ৩২, লাইব্রেরি ১১, খেলার মাঠ ২০, সাংস্কৃতিক সংগঠন ২।
দর্শনীয় স্থান চুনতি অভয়ারণ্য, পদুয়া ফরেস্ট এলাকা, গৌড়স্থানের প্রকৃতি।
জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৩৯.২৯%, অকৃষি শ্রমিক ৫.৪০%, শিল্প ০.৮২%, ব্যবসা ১৭.৭১%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ৩.৪৩%, চাকরি ১৪.৫৮%, নির্মাণ ১.৫৯%, ধর্মীয় সেবা ০.৪৯%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ৫.১৯% এবং অন্যান্য ১১.৫০%।
কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৬৩.৮৮%, ভূমিহীন ৩৬.১২%। শহরে ৬৪.১৩% এবং গ্রামে ৬১.৭৪% পরিবারের কৃষিজমি রয়েছে।
প্রধান কৃষি ফসল ধান, আলু, আখ, মরিচ, ফেলং।
বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি তিল, তিসি, তরমুজ।
প্রধান ফল-ফলাদি কলা, পেঁপে, পেয়ারা, আমড়া, বরই।
মৎস্য, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার মৎস্য ২৩২২ (পুকুর), হ্যাচারি (মৎস্য) ২২, গবাদিপশু ৫, হাঁস-মুরগি ১৩৯।
যোগাযোগ বিশেষত্ব পাকারাস্তা ৫৯.৮৯ কিমি, আধা-পাকারাস্তা ১৫৩.৬৫ কিমি, কাঁচারাস্তা ৮৬০.৩১ কিমি।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন পাল্কি।
শিল্প ও কলকারখানা চালকল, বরফকল, বিস্কুট ফ্যাক্টরি, টেক্সটাইল মিল, প্লাইউড কারখানা।
কুটিরশিল্প স্বর্ণশিল্প, লৌহশিল্প, মৃৎশিল্প, পাটি তৈরি, জাল বুনন, বাঁশের কাজ, কাঁঠের কাজ।
হাটবাজার ও মেলা হাটবাজার ২৪, মেলা ৩। দরবেশ হাট, তেওয়ারি হাট, খা’র হাট, হিন্দুর হাট, সেনের হাট ও মনুফকির হাট উল্লেখযোগ্য।
প্রধান রপ্তানিদ্রব্য চাল, জাল, তৈরি পোশাক।
বিদ্যুৎ ব্যবহার এ উপজেলার সবক’টি ইউনিয়ন পল্লিবিদ্যুতায়ন কর্মসূচির আওতাধীন। তবে ৪২.৪৭% (গ্রামে ৩৯.৯৩% এবং শহরে ৬৪.১৩%) পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
পানীয়জলের উৎস নলকূপ ৮৮.৬৬%, পুকুর ২.৫০%, ট্যাপ ০.৮৮% এবং অন্যান্য ৭.৯৬%।
স্যানিটেশন ব্যবস্থা এ উপজেলার ৪৯.২৪% (গ্রামে ৫৩.৯৬% এবং শহরে ৪৮.৬৯%) পরিবার স্বাস্থ্যকর এবং ৩৪.৫৫% (গ্রামে ৩৩.৯৫%এবং শহরে ৩৯.৬৮%) পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। ১৬.২২% পরিবারের কোনো ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ১, পরিবার-পরিকল্পনা কেন্দ্র ৫, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ৪, ক্লিনিক ৫।
